বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর শহরের দীর্ঘদিনের অভিশাপ জলাবদ্ধতা নিরসনে ভৈরব ও মুক্তেশ্বরী নদীর সংযোগ ড্রেনগুলো পুনরুজ্জীবিত করা, নতুন ড্রেন ও খাল খনন এবং ড্রেনসমূহের ডিজিটাল ম্যাপিং নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
একই সাথে ড্রেনে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা বন্ধে ওয়ার্ডভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারসহ প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পৌর মিলনায়তনে দৈনিক গ্রামের কাগজ ও নাগরিক সংগঠন ‘জনউদ্যোগ’র যৌথ আয়োজনে ‘যশোর শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা উঠে আসে।
দৈনিক গ্রামের কাগজের সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিনের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার যশোরের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান। ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন গ্রামের কাগজ বার্তা সম্পাদক ও জনউদ্যোগ সদস্য হাবিবুর রহমান মিলন।
গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনা করেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শরীফ হাসান, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জায়েদ হোসেন, বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মাহবুবুর রহমান মজনু, যশোর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর অ্যাড. জুলফিকার আলী জুলু, যশোর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি শাহীন ইকবাল, জনউদ্যোগের যুগ্ম আহবায়ক নারী নেত্রী অধ্যাপক সুরাইয়া শরীফ ও দীপক কুমার রায়, আইইডি যশোর কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক বীথিকা সরকার, প্রাইডের নির্বাহী পরিচালক উজ্জ্বল কুমার বালা, নারী ফোরামের আহবায়ক অ্যাড. মাসুমা বেগম, যশোর জেলা মহিলা পরিষদের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. কামরুন নাহার কনা, দৈনিক লোকসমাজের বার্তা সম্পাদক শিকদার খালিদ, দৈনিক রানারের ডেপুটি এডিটর প্রণব দাস, দৈনিক কল্যাণের বার্তা সম্পাদক তবিবর রহমান, সাংস্কৃতিক কর্মী সুকান্ত দাস, যুব গ্রুপের সদস্য ফিরোজ হোসেন প্রমুখ।
গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকবৃন্দ বলেন, ভৈরব নদ ও মুক্তেশ্বরী নদীর সাথে শহরের প্রধান ড্রেনগুলোর সংযোগ পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। বিল হরিণা ও মুক্তেশ্বরী অভিমুখে শহরের দক্ষিণাংশে নতুন বড় ড্রেন ও খাল খনন করে সরাসরি পানি নির্গমনের ব্যবস্থা করতে হবে।
শহরের সমস্ত ড্রেনের ডিজিটাল ম্যাপিং করে ঢাল (লেভেলিং) ও প্রশস্ততা সঠিকভাবে পুনর্বিন্যাস করতে হবে। ড্রেন থেকে বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে নিতে হবে। ড্রেনের সংযোগস্থল বা কালভার্টের মুখ প্রশস্ত করতে হবে যাতে অতিরিক্ত পানির চাপ সহ্য করতে পারে। পলিথিন ও প্লাস্টিক বোতল ড্রেনে ফেলা বন্ধে ওয়ার্ডভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা।
ড্রেনে বর্জ্য ফেলার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ জরিমানা আরোপের আইনি প্রয়োগ নিশ্চিত করা। শিক্ষক, স্থানীয় প্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনকে যুক্ত করে সচেতনতামূলক অভিযান চালানো।

