মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু, কেশবপুর :
যশোরের কেশবপুর-পাঁজিয়া সড়কের ব্যাসডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত একটি সরকারি যাত্রী ছাউনি দীর্ঘদিন ধরে বালু মজুত করে দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ যাত্রী, পথচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহারকারী হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা দ্রুত যাত্রী ছাউনিটি দখলমুক্ত করে জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সাত বছর আগে রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি যশোর থেকে ব্যাসডাঙ্গা এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে এসে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে ওই এলাকায় জমি কেনার পর তিনি সরকারি যাত্রী ছাউনির পাশ এবং ভেতরের অংশে বালু মজুত রাখতে শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বালু সংরক্ষণ করায় যাত্রী ছাউনিটি কার্যত সাধারণ মানুষের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার মৌখিকভাবে আপত্তি জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রী ছাউনির ভেতরের অধিকাংশ জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করে রাখা হয়েছে। ফলে সেখানে যাত্রীদের বসে বাস বা অন্যান্য যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। বৃষ্টি কিংবা তীব্র রোদ থেকে আশ্রয় নেওয়ার মতো অবস্থাও নেই। ছাউনির মূল উদ্দেশ্যই ছিল পথচারী ও যাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা, কিন্তু বর্তমানে সেটি দখল হয়ে থাকায় সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে যানবাহনের অপেক্ষা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সরকারি অর্থে নির্মিত যাত্রী ছাউনিটি একসময় এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা ছিল। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, নারী, শিশু ও বয়স্করা এটি ব্যবহার করতেন। কিন্তু বর্তমানে দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে এটি তার মূল উদ্দেশ্য হারিয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বৃষ্টির সময় এবং গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদে যাত্রীদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নারী ও প্রবীণদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করার ফলে জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক স্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারির অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের মতে, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ ধরনের সমস্যা এত দীর্ঘস্থায়ী হতো না।
স্থানীয়রা অবিলম্বে যাত্রী ছাউনির ভেতরে রাখা বালু অপসারণ করে সরকারি স্থাপনাটি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনো ব্যক্তি সরকারি সম্পত্তি দখল বা অপব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সড়ক কর্তৃপক্ষকে কার্যকর নজরদারি জোরদার ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা জানতে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

