বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
সময় গড়িয়েছে এক বছর। ক্যালেন্ডারের পাতা বদলেছে, বদলেছে অনেক কিছু। কিন্তু দৈনিক বাংলার ভোর পরিবারের কাছে আবু সাঈদ সাগরের স্মৃতি আজও অমলিন। কর্মব্যস্ত অফিসে কোনো একটি মুহূর্তে তার কথা মনে পড়ে যায় সহকর্মীদের। মনে পড়ে যায় দায়িত্বশীল, নীরব ও কর্মনিষ্ঠ সেই মানুষটির কথা, যিনি নিজের কাজের মধ্য দিয়েই সহকর্মীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
আজ সোমবার (৪ আগস্ট) দৈনিক বাংলার ভোরের কম্পিউটার বিভাগের ইনচার্জ মরহুম আবু সাঈদ সাগরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২৫ সালের এই দিনে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৫ বছর।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তাকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে জানান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ আগস্ট রাতে তার মৃত্যু হয়।
আবু সাঈদ সাগর ছিলেন দৈনিক বাংলার ভোর পরিবারের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। পত্রিকার কম্পিউটার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলে তিনি নীরবে নিজের কাজ করে যেতেন। সংবাদ প্রকাশের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা, পৃষ্ঠা প্রস্তুত ও ছাপার আগে নানা কারিগরি কাজ—সবকিছুতেই তার দায়িত্বশীল ভূমিকা ছিল। কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিক আচরণের কারণে তিনি সবার কাছে ছিলেন আপনজন।
প্রচারের আলো কিংবা বাহবা পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল না তার। দায়িত্বকে দায়িত্ব হিসেবেই দেখতেন। নির্ধারিত সময়ের কাজ শেষ করা এবং পত্রিকার প্রকাশনা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। ফলে তার অনুপস্থিতি শুধু একজন কর্মীর শূন্যতা নয়, বরং বাংলার ভোর পরিবারের দৈনন্দিন কর্মপরিবেশেও তৈরি করেছে এক অপূরণীয় শূন্যতা।
এক বছর পেরিয়ে গেলেও সাগরের স্মৃতি সহকর্মীদের কাছে এখনও জীবন্ত। তার হাসিমুখ, আন্তরিক ব্যবহার, দায়িত্ববোধ ও কর্মনিষ্ঠার কথা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সহকর্মীরা। সময় তার শারীরিক অনুপস্থিতিকে দীর্ঘ করেছে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে তার জায়গাটি মুছে দিতে পারেনি।
সাগরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে দৈনিক বাংলার ভোর পরিবারের পক্ষ থেকে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।
মহান আল্লাহ যেন মরহুম আবু সাঈদ সাগরকে ক্ষমা করেন, তার কবরকে নূরে পরিপূর্ণ করেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন—এই দোয়া বাংলার ভোর পরিবারের।

