বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস. এম. সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য চিত্রাঙ্কন উৎসব ‘রঙে রেখায় সুলতান’। শুক্রবার চারুপীঠ আর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট, যশোরের আয়োজনে জিমনেসিয়ামে দিনব্যাপি এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
সকালের শুরু থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু-কিশোররা অভিভাবকদের সঙ্গে উৎসবস্থলে উপস্থিত হয়। রঙ, তুলি, পেন্সিল ও ক্যানভাস হাতে তারা নিজেদের কল্পনা ও সৃজনশীলতাকে ফুটিয়ে তোলে ছবির মাধ্যমে। তাদের আঁকায় উঠে আসে প্রকৃতি, গ্রামীণ জনজীবন, কৃষকের সংগ্রাম এবং এস. এম. সুলতানের শিল্পদর্শনের নানা অনুষঙ্গ।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের উৎসবে ৬২০ জন শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে যশোরে আয়োজিত অন্যতম বৃহৎ শিশু চিত্রাঙ্কন উৎসব। প্রতিকূল আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকায় অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন করে যশোর জিমনেসিয়ামে আয়োজন করা হয়। স্থান পরিবর্তন সত্ত্বেও উৎসবের আয়োজন ছিল প্রাণবন্ত ও সুশৃঙ্খল।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান চারুপীঠ যশোরের সাধারণ সম্পাদক কাজী মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, শিশুদের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক এবং অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। আয়োজন জুড়ে ছিল শিল্পচর্চার এক প্রাণবন্ত আবহ। শিশুদের সৃজনশীল প্রকাশ যেমন দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি অভিভাবকরাও সন্তানের শিল্পীসত্তার বিকাশে এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।
তিনি আরও জানান, আগামী ১৪ আগস্ট বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি যশোর মিলনায়তনে উৎসবের পুরস্কার বিতরণী, সনদপত্র প্রদান, সৃজনশীলতা সম্মাননা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে সকল অংশগ্রহণকারী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া উৎসব সফল করতে অংশ নেয়া শিশু-কিশোর, অভিভাবক, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে চারুপীঠ আর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট।

