বাংলার ভোর প্রতিবেদক
‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যে যশোরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। মৎস্য উৎপাদনে সাফল্য তুলে ধরা, নিরাপদ ও মানসম্মত মাছ উৎপাদনে জনসচেতনতা তৈরি, দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ এবং মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে এ পক্ষ পালন করা হচ্ছে।
রোববার সকালে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এর উদ্বোধন করেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত র্যালি বের করা হয়। এতে মৎস্যচাষি, হ্যাচারি মালিক, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পরে পৌর পার্কের পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু জাফর সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, স্বাদু পানি, যশোর উপকেন্দ্রের প্রধান ডা. এএসএম তানভিরুল হক।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি দেলোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন, যশোরে মৎস্য চাষের সম্প্রসারণে অতীতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। বর্তমানে মৎস্যচাষীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সরকারি সহায়তা ও মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়াতে হবে। বিদ্যুৎসহ কিছু সমস্যা জাতীয় নীতির সঙ্গে যুক্ত উল্লেখ করে তিনি এসব বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা প্রয়োজন বলে জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে মাছের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। মাছের উৎপাদন বাড়লেও বাজারে মাছের দাম ও সহজলভ্যতা নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। মাঠপর্যায়ে মৎস্যচাষীদের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে সরকারি কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, যশোর ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে যশোরকে মৎস্যের রাজধানী হিসেবেও পরিচিত করা সম্ভব। মৎস্যকে শক্তিশালী শিল্পে পরিণত করে বিদেশে রপ্তানি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে জাতীয় জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে ২২ দশমিক ০৩ শতাংশ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ মানুষ এ খাতের সঙ্গে যুক্ত।
বক্তারা দেশীয় মাছের প্রজাতি রক্ষা, জলাশয়ের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ শিকার বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে জেলে ও মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় জানানো হয়, বর্তমানে মাথাপিছু দৈনিক মাছের প্রাপ্যতা ৬৭ দশমিক ৮০ গ্রাম। জাতীয় পুষ্টিচাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজন ৬০ গ্রাম। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় মাছের প্রাপ্যতা বর্তমানে বেশি।
সভা শেষে মৎস্য খাতে অবদান রাখা মৎস্যচাষি ও হ্যাচারি মালিকদের সম্মাননা দেয়া হয়।

