নড়াইল সংবাদদাতা
নড়াইলে পিতা মাহমুদুল হাসান হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান (৪৫) তার মা ফাতেমা বেগম (৩৫) বিল্লাল বিশ্বাস (৪৮) এবং নাজরিন নাহার মাহি (২৫) সহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মেয়ে শাহানাজ আক্তার।
সোমবার দুপুরে শাহানাজ খানম তার পিতার হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার জন্মদাতা পিতা হিন্দু ধর্মের লোক ছিলেন নাম সাগর। তিনি চাকরি সূত্রে মাষ্টার ছিলেন।
আমার মা ফাতেমা তার স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী থাকাকালে আমার পিতার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। পরে আমার পিতা সাগর কোর্টের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত হয়ে মাহমুদুল হাসান নামে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ২০০৪ সালে আমার মা ফাতেমাকে বিয়ে করেন।
মাতা-পিতা ঘর সংসার করা কালে ২০০৬ সালে আমি জন্মগ্রহণ করি। তখন আমরা ঢাকার টঙ্গীতে বসবাস করতাম।
তিনি জানান, ৭/৮ বছর বয়সে আমাদের পাশের বাসায় মনিরুজ্জামান মনির ড্রাইভার গ্রাম রামচন্দ্রপুর, থানা ও জেলা নড়াইল, তার ছেলেকে নিয়ে ভাড়া থাকার সুবাদে মা ফাতেমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করে স্বামী স্ত্রীর মতো মেলামেশা করতে থাকে। মাহমুদুল হাসান সাগর মনিরের সঙ্গে মায়ের প্রেমের সম্পর্ক জানতে পেরে একদিন মাকে মারধর ও নির্যাতন করে।
তখন ২০১৪ সালে ১২ ডিসেম্বর আমার মা আমাকে নিয়ে মনিরের সঙ্গে গোপনে তার আম্মার বাড়ি রামচন্দ্রপুর, নড়াইলে চলে আসে। আমার পিতা মাহমুদুল হাসান সাগর আমার ও আমার মায়ের খোঁজে নড়াইল রামচন্দ্রপুর গ্রামে আসলে ১৫ ডিসেম্বর দিনে মনিরের মা মহির ঘরে আমাকে ও আমার মাকে পেয়ে নিয়ে যেতে চান। তখন বিল্লাল, মনির সকলে বলে যে, রাতে থেকে কাল সকালে তোমার মেয়েকে নিয়ে চলে যাবে।
তিনি অভিযোগ করেন, সে রাতে অতর্কিতভাবে মনিরুজ্জামান (৪২) পিতা. আলতাফ হোসেন, ফাতেমা বেগম (৩৫) পিতা ইসহাক মিয়া, মনিরুজ্জামান, বিল্লাল বিশ্বাস (৪৮), নাজরিন নাহার/মাহি (২৫), উভয় পিতা পান্ডু বিশ্বাস, গ্রাম রামচন্দ্রপুর, থানা ও জেলা নড়াইল সহ ৭/৮ জনে মহির ঘরের মধ্যে আমার পিতাকে বেদম মারপিট করে।
কাছে যেতে চাইলে আমার মা ফাতেমা আমাকে মারপিট করে গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করে। পরে রাতে ঘুমিয়ে, সকালে উঠে পিতার কাছে যেতে চাইলে মা ফাতেমা আমাকে বলে যে, তোর পিতা মারা গেছে।
মৃত পিতাকে দেখতে চাইলে মাতা আমাকে আরও মারধর করে মাদারীপুর খালার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। ২/৩ দিন খালার বাড়িতে থাকার পরে আমার সৎ পিতা মনিরুজ্জামান ও মা ফাতেমা খালার বাড়ি থেকে আমাকে ঢাকা টঙ্গীতে আমাদের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে আমার পিতার ঘরের সমস্ত মালামাল ২ ট্রাকে উঠিয়ে ও ব্যাংকে গিয়ে আমার পিতার গচ্ছিত ৫০ লাখ টাকা আমাকে দিয়ে শাহনাজ নাম লিখিয়ে তা তুলে নিয়ে ট্রাকসহ রামচন্দ্রপুর, নড়াইলে চলে আসে।
আমি ১৯ বছরে পর্দাপন করলে লোহাগড়া থানাধীন মশাগুণি গ্রামের নাজিম দেওয়ানের পুত্র সৌরভ দেওয়ানের সাথে আমাকে শতাধিক লোকের উপস্থিতিতে সামাজিকভাবে বিয়ে দেয়। এ সময় আমার স্বামী পক্ষ বিবাহের সময় গহনাপত্র ও খরচাদি প্রদান করে। আমার পিতা বেঁচে থাকলে অবশ্যই আমার খোজ খবর নিতো। এখন আমি আমার পিতা হত্যার বিচার চাই।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান ও ফাতেমা বেগম হত্যার ঘটনাটি অস্বীকার করেছেন। তারা বলেন মাহামুদুল হাসান সাগর স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুবরণ করেছেন। হত্যার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়।
