জীবননগর সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে স্বর্ণ পাচারের চেষ্টাকালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মনিরুল ইসলাম মনির (২৬) নামে এক চোরাকারবারী আহত হয়েছেন। পরে তাকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গেছেন। আহত মনিরুল ইসলামকে ভারতের কৃষ্ণনগর জেলার শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সীমান্ত এলাকার একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের মেদিনীপুর সীমান্তের
৬১/১-এস সীমান্ত পিলারের কাছ থেকে ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে এ ঘটনা ঘটে। আহত মনিরুল ইসলাম হরিহরনগর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে স্বর্ণ পাচারের উদ্দেশ্যে মনিরুল ইসলামসহ ৬-৭ জন ডিঙ্গি নৌকায় করে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি যান। এ সময় ভারতের ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের টুঙ্গি ক্যাম্পের সদস্যরা তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এতে মনিরুল ইসলাম ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পার্শ্ববর্তী খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান। পরে বিএসএফ সদস্যরা আহত মনিরুল ইসলামকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান।
হরিহরনগর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য টিটু জানান, সন্ধ্যার পরপরই সীমান্তবর্তী কাঁটাতারের কাছ থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে তিনি জানতে পারেন, মনিরুল ইসলামকে বিএসএফ আহত অবস্থায় আটক করে নিয়ে গেছে। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ জানান, ঘটনাটি তারা শুনেছেন। তবে প্রশাসনিকভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মেজর তোয়াসীন হাবীব হাসান জানান, মেদিনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার মেইন পিলার ৬১/১-এস-এর নিকট শূন্য লাইন থেকে প্রায় ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের বেড়ার সন্নিকটে গুলির শব্দ শোনা যায়। এ সময় মেদিনীপুর ক্যাম্পের বিজিবি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সীমান্তবর্তী জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। ঘটনার পরপরই সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অধিনায়ক পর্যায়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
