নড়াইল সংবাদদাতা
নড়াইলের লোহাগড়ায় অনলাইন জুয়া ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একটি চক্রের মূলহোতাসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লোহাগড়া উপজেলার ঝামারঘোপ বাজারের মা ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় অনলাইন জুয়া ও প্রতারণায় ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি মোবাইল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন, ফার্মেসির মালিক ফরহাদ হোসেন (২৬), তার সহযোগী সজীব হোসেন, প্রসেনজিৎ মজুমদার (৩০), জমির মোল্যা (৪৫), আলাউদ্দিন মোল্যা (২৮), লাছু মিনহাজ (২৪), নাজমুল মোল্যা (২৬), ফরিদ হোসেন (২৮) ও বিবেক বিশ্বাস (২৫)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।
জব্দ করা মোবাইল ডিভাইস পরীক্ষা করে বিভিন্ন অনলাইন জুয়া ও বেটিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের তথ্য এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নড়াইলের পুলিশ সুপার আল মামুন সিকদার।
পুলিশ সুপার জানান, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর, নাহিদ ওয়ার্ড, কলম প্যাকেজিং, কাকলী ফার্নিচার, ইলিশ ভাইয়া চাঁদপুর ও অনলাইন বিডি’সহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল।
তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ডিভাইসে ওয়ানএক্স বেট ও মেলবেট, সিকে৪৪ ডটকম, ওয়ান এফ ওয়ান ওয়ানসহ বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের এবং ই-ট্রানজেকশনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় লোহাগড়া থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ১৬, ১৭, ২৫ ও ২৭ ধারায় মামলা দায়ের করে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই আলম সিদ্দিকী, মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিনসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
