শ্যামনগর সংবাদদাতা :
সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুতে তার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন শ্যামনগরের বিক্ষুব্ধ জনতা। একই সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বাতিলেরও দাবিও তুলেছেন।
সোমবার বেলা ১১টায় শ্যামনগর সদরে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’র ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ বিএনপির নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি বাবলাতলা মোড় হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা বলেন, মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে হবে। তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি না করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনাকে কোনোভাবেই ধামাচাপা দেয়া যাবে না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ সময় গাজী নজরুল ইসলামের বাড়ির পাশের বাসিন্দা ও সাবেক জামায়াত কর্মী শাহজাহান বলেন, তিনি আগে জামায়াতের কর্মী ছিলেন। তার দাবি, জামায়াতের ঘোষিত ও বর্তমানে থাকা কর্মীদের বিষয়ে মানুষের সামনে প্রকৃত বিষয় তুলে ধরা এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে চারিত্রিক ও মানবিক দিক বিবেচনায় আলোচনা করা প্রয়োজন।
এদিকে, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক দলসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যায়। মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াত দলীয় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। মাত্র কৈশোর পার করা মেধাবী ও প্রতিভাবান মরিয়মের অকাল মৃত্যুতে সারা দেশবাসীর মতো তারাও স্তম্ভিত এবং আবেগ আচ্ছন্ন।
দেশবাসীর সাথে সমস্বরে তারাও মাত্র উনিশ বছরে পা রাখা মেয়েটির আত্মহত্যায় প্ররোচনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয় গাজী নজরুল ইসলামের লালসার বলি হওয়া মরিয়ম খাতুনের অকাল মৃত্যু হয়েছে। অপ্রত্যাশিত এ মৃত্যুর দায় গাজী নজরুল ইসলামকে নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যেই মামলার তদন্ত কাজ শুরু করে দিয়েছে। নিহত মরিয়মের পিতার দায়ের করা মামলা সূত্রে পুলিশ যখন সঠিক উপায়ে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে তখনই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে চিহ্নিত গুপ্ত গোষ্ঠী চক্রান্ত শুরু করেছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জেরে গাজী নজরুল ইসলামকে আই ওয়াশের অংশ হিসেবে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।কিন্তু নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য তারা গোপনে মরিয়মের মৃত্যুর দায় থেকে মুল অপরাধীকে বাঁচানোর কৌশল খুঁজছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আরো বলেন জামায়াত নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নিহত মরিয়মের ফুফুকে মাঠে নামিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়ানো একটি ভিডিও ফুটেজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মরিয়মের ফুপু পরিচয় দিয়ে ওই নারী দাবি করছেন সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার প্রলোভনে মরিয়মের মামা ওবায়দুল্লাহ গাজী নজরুল ইসলামের অপকীর্তি ফাঁস করে দিয়েছে।
নিজের ভিডিও বক্তব্যে ওই নারী আরও দাবি করেছেন ওবায়দুল্লাহ মুল কালপ্রিট, আর তাকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। অথচ পৃষ্ঠপোষক জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে যেয়ে তিনি জামায়াত দলীয় এমপি কাজী নজরুলের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
বিএনপি’র প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয় চাকরির প্রলোভনে ফেলে গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছিলেন। একপর্যায়ে মগবাজারের একটি হোটেলে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে, মুখ রক্ষা করতে তিনদিন পর মেয়েটিকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করে নজরুল ইসলাম।
অথচ ফুফু দাবি করা এই নারী আগে কোন কথা না বললেও হঠাৎ করে মরিয়মের মৃত্যুর একদিন পর টিভি ক্যামেরার সামনে এসে সমস্ত ঘটনার জন্য ওবায়দুল্লাহকে দায়ী করে মূলত গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে বাঁচানোর অপকৌশল নিয়েছেন।
সোলায়মান কবিরের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয় ফুফু দাবি করা নারীর বক্তব্য প্রমাণ করে তিনি গাজী নজরুলের পৃষ্ঠপোষক জামায়াতের ইসলামের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মিশনে মাঠে নেমেছেন।
গাজী নজরুলকে রক্ষা করার অভিপ্রায় থেকে তিনি ওবায়দুল্লাহকে একক আসামি বানিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন।
