বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোরে কিশোর তানভীর হাসান স্বাধীন (১৬) হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার মা সুমাইয়া আক্তার। ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মামলা হলেও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে সুমাইয়া আক্তার অভিযোগ করেন, গত ১৯ অক্টোবর রাতে যশোর শহরের বারান্দী মালোপাড়া এলাকার একটি মন্দিরের পাশের গলিতে কয়েকজন যুবক তার ছেলে স্বাধীনকে আটকে মারধর করেন। খবর পেয়ে স্বাধীনের বাবা তাকে উদ্ধার করতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে হাসপাতালে নিতেও বাধা দেন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্বাধীনকে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ২০ অক্টোবর রাতে তার মৃত্যু হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্বাধীন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
সুমাইয়া আক্তার বলেন, গত ২৪ অক্টোবর যশোর কোতোয়ালি থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলা হওয়ার পরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া স্বাধীনের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
নিহতের মায়ের দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—যশোর শহরের বারান্দী মালোপাড়ার রেজা, তাঁর শাশুড়ি ওলি, রনি, রনির বাবা আলী, পার্থ ও নারায়ণ।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, কিশোর স্বাধীন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনের খালা সুমি, ফুফু সোমা ও সীমা, মামি পান্নাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
