বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) নতুন ও কনিষ্ঠ শিক্ষকদের শিক্ষাদান ও গবেষণার দক্ষতা বাড়াতে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।
সোমবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) সম্মেলনকক্ষে এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। ‘ট্রেনিং অন প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ফর জুনিয়র ফ্যাকাল্টি’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য কনিষ্ঠ শিক্ষকদের পেশাগত বিকাশ, আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি, উচ্চতর গবেষণা এবং একাডেমিক ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। প্রধান অতিথি ও প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হামাদুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষক হওয়ার প্রক্রিয়াটি একটি বড় রূপান্তর। এ সময়ে শ্রেণিকক্ষে কার্যকর শিক্ষাদান, গবেষণা পরিচালনা এবং একাডেমিক নীতিনৈতিকতা পালনে নবীন শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি বড় দায়িত্ব। সততা, স্বচ্ছতা, সময়ানুবর্তিতা ও ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের কাছে আদর্শ হয়ে উঠতে হবে। এ প্রশিক্ষণ কনিষ্ঠ শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। আগামীতে এক ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি অর্জনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল রূপান্তর ও মানসম্মত গবেষণার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, শিক্ষকতা কেবল চাকরি নয়, এটি মহান দায়বদ্ধতা ও অনুরাগের বিষয়। আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে নিতে এবং মানসম্মত গবেষণা নিশ্চিত করতে নবীন শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। নিয়মিত দক্ষতা উন্নয়ন ও আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, শিক্ষকতা একটি মহান ব্রত। শিক্ষার্থীদের কাছে আদর্শ হয়ে উঠতে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসার বিকল্প নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের দায়িত্ব হলো শিক্ষকদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যবিপ্রবিকে দেশের অন্যতম সেরা উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হামাদুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মীর মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. ফারহানা ইয়াসমিন।
