পাইকগাছা সংবাদদাতা :
খুলনার পাইকগাছায় ভরা মৌসুমে ২৪ বিঘা জমির একটি চিংড়িঘেরের বাঁধ কেটে দখলে নেওয়া ও মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঘেরের মালিক থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উভয় পক্ষকে জমির কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়েছে। গত ১১ অক্টোবর সকালে উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের গোয়ালবাথান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালবাথান গ্রামের রামপদ মণ্ডলের ছেলে জগদীশ মণ্ডল ও বঙ্কিমচন্দ্র মণ্ডলের ওয়ারিশেরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া ২৪ বিঘা জমিতে চিংড়িঘের পরিচালনা করে আসছেন। তাদের দাবি, গোয়ালবাথান মৌজার সংশ্লিষ্ট জমি রেকর্ডভুক্ত এবং তাঁরা নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে ভোগদখলে রয়েছেন।
এ জমি নিয়ে স্থানীয় সুরেন্দ্রনাথ মণ্ডলের ছেলে বিজয়কৃষ্ণ মণ্ডল ও কিশোরী মোহন মণ্ডলদের সঙ্গে বিরোধ চলছে। বিরোধের জেরে বিজয়কৃষ্ণ মণ্ডল ও তাঁর পক্ষের লোকজন যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি ১১৯/২৬ নম্বর দখলস্বত্বের মামলা করেছেন। মামলাটি বিচারাধীন।
ঘেরের মালিক জগদীশ মণ্ডলের অভিযোগ, ঘটনার দিন মুছা নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে বিজয়কৃষ্ণ মণ্ডল, কিশোরী মোহন মণ্ডলসহ ২০ থেকে ২৫ জন তার ঘেরে প্রবেশ করেন। তারা ঘেরের বাঁধ কেটে দেন, সেখানে ঘর তৈরি করেন এবং মাছ লুট করে ক্ষতিসাধন করেন। মামলায় দখলের প্রমাণ দেখানোর উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাঁদের পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি।
অভিযোগের পর পুলিশের উপপরিদর্শক আবদুল আজিজ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। তিনি বলেন, উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে। জগদীশ মণ্ডলদের ঘেরের দখল আগের মতো বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
