শাহীদুল ইসলাম, লোহাগড়া
নড়াইলের লোহাগড়ায় বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে কোন কোন কৃষক আগাম শিম চাষ করে বাজারজাত শুরু করেছেন। আবার কেউ জমিতে চারা রোপণ করছেন, কেউবা রোপিত চারার পরিচর্যা ও জমি প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় প্রায় দুইশ’ হেক্টর জমিতে শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শীত জুড়ে বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যায়ক্রমে চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। মাঠে লাল শাক, পুঁইশাক, পালংশাক, লাউ, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মুলা, শিমসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজি চাষ করতে ব্যস্ত কৃষকরা।
শুক্রবার বিকেলে দোয়া-মল্লিকপুর গ্রামের কৃষক উজ্বল মল্লিক জানান, এ বছর আমি দুই একর জমিতে শীত কালীন সবজি চাষ করেছি। সকালে বাড়ি থেকে আসছি দুপুরে খেয়ে আবার সবজি ক্ষেত পরিচর্যার কাজ করছি। তবে এক একর জমিতে শিম ক্ষেতে ফুল ও ফলে ভরে উঠেছে। মাচা জুড়ে ঝুলছে কচি শিম। তিনি আরো বলেন তার শিম চাষ দেখে একই এলাকার অন্য কৃষকরা শীতকালীন শিম চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তার সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে কৃষক কাশেম আলীসহ ওই এলাকার আরও কয়েকজন শিম চাষ করেছেন। আমার শিম ক্ষেতে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি ৪০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন বাজারে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও বর্তমান বাজার দর ঠিক থাকলে প্রায় দুই লাখ টাকার শিম বিক্রি করার আশা করছেন।
চর-কালনা গ্রামের শাহিদুল ইসলাম জানান, এ বছর বৃষ্টির কারণে দুইবার বিজতলা নষ্ট হয়েছে। তৃতীয় বারের মতো তৈরি বিজতলার চারা রোপণের উপযোগী হয়েছে। তিন একর জমিতে শীতকালীন শাক-সবজির মধ্যে রয়েছে শিম, বেগুন, লাল শাক, পুঁই শাক, পালংশাক, শশা চাষাবাদ করেছেন। তবে শ্রমিকের সংকট ও মজুরি বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম সার সংকটের কারণে কৃষকদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
মল্লিকপুর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহান কাজী বলেন, কৃষক উজ্বল মল্লিকের শিম ক্ষেতে নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বারোমাসি আইরেট (হাইব্রিড) জাতটি শীতকালীন সময়ে চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষকের ভালো ফলন পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের শিমসহ সব ধরনের সবজি চাষে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যাতে তারা আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে শীতকালীন সবজি চাষে কম খরচে বেশি উৎপাদন ও লাভবান হতে পারেন।
লোহাগড়া উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মুনমুন সাহা জানান, দিনে রোদ আর রাতে ঠান্ডা এই আবহাওয়া আগাম শীতকালীন সবজি চাষের জন্য উপযোগী। বারোমাসি আইরেট (হাইব্রিড) জাতের শিমটি খেতে খুবই সুস্বাদু এবং বাজারে চাহিদা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এই জাতের শিমের উৎপাদন ও ফলন খুবই ভালো হয়। আগামীতে এই জাতের শিম চাষ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা করছেন।
